বাংলাদেশক্রিকেট, বাংলাদেশ ক্রিকেট

Pages

Saturday, 8 August 2015

অবশেষে মায়ের কোলে মুস্তাফিজ

0 comments
লিমনঃ             

ঢাকা থেকে আধঘণ্টার সংক্ষিপ্ত যাত্রা শেষে সকালে বিমানটি যখন যশোর বিমানবন্দরের রানওয়ে যখন ছুঁল, শত শত দৃষ্টি নিবদ্ধ সেদিকে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করল একের পর এক যাত্রী। কিন্তু যাঁর জন্য অপেক্ষা, সেই মুস্তাফিজুর রহমান কোথায়!

মুস্তাফিজের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান ও সেজো ভাই মোখলেসুর রহমানকে ভেতরের ফটকের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা। মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রায় তিন শ মানুষ, ভোর পাঁচটায় রওনা দিয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে এসেছে, মুস্তাফিজকে বরণ করে নেবে বলে।
প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিমানের পেট থেকে বেরিয়ে এলেন মুস্তাফিজ। আপাতদৃষ্টিতে দেখতে কেতাদুরস্ত অন্য যাত্রীদের তুলনায় যিনি একেবারেই সাধারণ। এ সাধারণ তরুণই ২২ গজে হয়ে যান অসাধারণ, অবিশ্বাস্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দিয়েই গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। ওয়ানডে ও টেস্ট অভিষেকে ম্যাচ সেরা হওয়া ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হয়ে তবেই ফিরলেন বাড়ি। তিন মাস পর। তাঁকে এক পলক দেখতে, বরণ করে নিতে জনতার সে কী ব্যাকুলতা!
মুস্তাফিজ যেই না রানওয়ে পেরিয়ে ফটকের সামনে এলেন, অপেক্ষারত জনতাকে ঠেকায় কে! নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা ধসে পড়ল বালুর বাঁধের মতো! মুহূর্তেই সবাই ঘিরে ধরল মুস্তাফিজকে। সেই হাসিটার, প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের দুর্বোধ্য কাটারে ফিরিয়ে উদযাপনে যে নিষ্পাপ সরল হাসিটা উপহার দেন, দেখা মিলল আরও একবার। ভাই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, দূরের-কাছের কত মানুষ! এত মানুষ দেখে নিজেও খানিকটা ভড়কে গেলেন, ‘এত্ত মানুষ কেন? আমি তো রাজনৈতিক নেতা না!’ তবে বহুদিন পর আপন ভুবনের মানুষগুলোকে পেয়ে চোখমুখে খেলে গেল অনির্বচনীয় আনন্দ। ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হলো মুস্তাফিজকে। সঙ্গে সেলফি, ছবি তোলার হিড়িক তো ছিলই।
ভারত সিরিজের আগে ১৯ মে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন। এরপর পেরিয়েছে প্রায় তিন মাস। বিমানে আসতে আসতে পাশে বসা বন্ধু ইব্রাহিমকে আঙুলের কড় গুনে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘বাড়ি থেকে এলাম কদ্দিন হলো রে?’ বাড়ি ফিরতে মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরই ফিরতে চেয়েছিলেন বাড়ি। ফেরার টিকিটও কাটা হয়েছিল ঈদের আগে। কিন্তু আরও একটি আনন্দের সংবাদ পিছিয়ে দিল মুস্তাফিজের বাড়ি ফেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে ডাক পেলেন। আবারও জাদু। উপহার দিলেন আরেক প্রস্থ বিস্ময়, এক ওভারে তিন উইকেট নেওয়ার সেই কীর্তি! অবশেষে মুস্তাফিজের বাড়ি ফেরা। ফেরা মায়ের কোলে।
বাড়ির ছোট ছেলে। আদুরে। মায়েরও সব ভালোবাসা যেন দখল করে আছেন। কিন্তু মায়ের বুকে ফিরতে আরও অপেক্ষা করতে হলো। যশোর থেকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামে পৌঁছানোর আগে যে একের পর এক যাত্রা-বিরতি। যেন বরযাত্রায় বেরিয়েছে শ তিনেক মানুষ! বাসের ভেতরে, ছাদ ভর্তি মানুষের অবিরত হর্ষধ্বনি। যেন মিরপুরের গ্যালারি সঙ্গে নিয়ে চলেছেন মুস্তাফিজ। সঙ্গে মাইকে চলছে ধারা-বিবরণী। মুস্তাফিজকে নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করছেন স্থানীয় ধারাভাষ্যকার পবিত্র। ধারাভাষ্য দিতে দিতে কখনো গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে। তবুও থামবার নন!
গাড়িবহরে থাকা সবাই যে মুস্তাফিজের পরিচিত, তাও নন। মুস্তাফিজের কাছে তারা পরিচিত না হোক, তাদের কাছে মুস্তাফিজ অতিপরিচিত, বড্ড আপনজন। অনেকেই ব্যক্তিগত জরুরি কাজ ফেলে এসেছেন মুস্তাফিজকে বরণ করতে। তেঁতুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল আজ। সেটি আরেকজনের ওপর কোনোভাবে চাপিয়ে চলে এসেছেন যশোর বিমানবন্দরে। মনিরুল বললেন, ‘এমন সুযোগ কি সব সময় পাওয়া যাবে? ওর সেজো ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরার জালের সুতো দিয়ে দুই মেহেগনির মাঝে নেট বানিয়ে অনুশীলন করত আমাদের স্কুলের মাঠে। সেই মুস্তাফিজ এখন ক্রিকেট বিশ্বের বিস্ময়। মুস্তাফিজ জীবনে হয়তো আরও বহুবার বাড়িতে ফিরবে। কিন্তু ওয়ানডে-টেস্টে অভিষেকে চমকে এভাবে তো আর ফিরবে না!’
শরীর অসুস্থ থাকার পরও বাড়ি ফেরার পথে হাসিমুখে সইতে হয়েছে সহস্র মানুষের ভালোবাসার ‘যন্ত্রণা’! যশোর থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত মোটামুটি ‘নির্বিঘ্ন’ থাকলেও অভ্যর্থনার হিড়িক পড়ল সাতক্ষীরার পরই। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হাদিপুর, তারালি—নানা জায়গায় থেমে থেমে নিতে হয়েছে ফুলেল অভ্যর্থনা। আর জায়গায় জায়গায় উৎসুক জনতার আবদার মেটাতে গাড়িয়ে থামিয়ে ছবি তোলা তো ছিলই। যশোর থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার যাত্রা শেষে অবশেষে তেঁতুলিয়া গ্রাম।
নিজ গ্রামে পা রাখতেই হুট করে এক পশলা বৃষ্টি! মিনিট পাঁচেকের এ বৃষ্টি যেন বলতে চাইল, পুরো পথেই তো ভালোবাসার বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েছে, এবার না হয় আমারটাও নাও!
বাড়ির সামনে শত জনতার ভিড় ঠেলে মুস্তাফিজ এগিয়ে গেলেন বাবা আবুল কাশেম গাজী ও মা মাহমুদা খাতুনের কাছে। প্রগাঢ় মমতায় মা টেনে নিলেন প্রিয় সন্তানকে। মায়ের বুকে মুখ লুকালেন মুস্তাফিজ। এই মুস্তাফিজ আবির্ভাবেই তারকা হয়ে যাওয়া মুস্তাফিজ নয়, গোটা কয় রেকর্ডের পাশে নিজের নাম লেখানো মুস্তাফিজ নয়; এই মুস্তাফিজ সেই ছোট্ট, আদুরে মুস্তাফিজই!

Read full post »

মুস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি ফেরা

0 comments

গত ১৯ মে তিনি শেষবারের মতো নিজের বাড়ি ছেড়েছিলেন। সাতক্ষীরার বাড়ি ছেড়েছিলেন নীরবে-নিভৃতেই। এর আগে অবশ্য জাতীয় দলে অভিষেকটা হয়ে গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই নজর কেড়েছিলেন তিনি। শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের দুই উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ সম্ভাবনাময় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু মে মাসের ১৯ তারিখে তিনি কী জানতেন ঢাকায় যেয়েই তিনি ঝড় তুলবেন ক্রিকেট দুনিয়ায়? জুনে ভারতের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে আলোড়ন তুললেন ক্রিকেট দুনিয়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকাও বিব্রত হল তাঁর বোলিং-ক্যারিশমায়। কেবল ওয়ানডেতে নয়, টেস্ট ক্রিকেটের কুলীন আঙ্গিনাতেও। সেই মুস্তাফিজ আজ প্রায় তিন মাস পর বাড়ি ফিরছেন। ঢাকা থেকে বিমানে করে যশোরে পৌঁছেই পেলেন বিপুল সংবর্ধনা। মুস্তাফিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই যশোর বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন ঘরের ছেলেকে বরণ করে নিতে। প্রথম আলোর আলোকচিত্রী জাহিদুল করিমের ক্যামেরায় যশোর বিমানবন্দরে মুস্তাফিজের কিছু মুহূর্ত...

ছবি: জাহিদুল করিম

যশোর বিমানবন্দরে নেমেই ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁকে বরণ করে নিতে বিমান বন্দরের রানওয়েতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা। 

ছবি: জাহিদুল করিম

বন্ধু-বান্ধব ও ভক্ত পরিবেষ্টিত মুস্তাফিজুর রহমান। পুরো বিষয়টাই তাঁর কাছে নতুন। তাই মুখে লাজুক হাসি।

ছবি: জাহিদুল করিম

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জীবনে দারুণ এক উল্লম্ফন দেখলেন মুস্তাফিজুর রহমান। পুরো বিষয়টিই হয়তো স্বপ্নের মতো লাগছে তাঁর ।

ছবি: জাহিদুল করিম
বিমান বন্দরের রানওয়ে পেরিয়ে নিজের অপেক্ষমাণ গাড়ির দিকে যাচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। 

ছবি: জাহিদুল করিম

রানওয়ের বাইরে ফুল নিয়ে অপেক্ষায় মুস্তাফিজের আত্মীয়-স্বজনেরা। 

ছবি: জাহিদুল করিম।

সবার গর্ব মুস্তাফিজ। 

ছবি: জাহিদুল করিম

এই গাড়িতে চেপেই দেশের বাড়ি সাতক্ষীরা যাবেন মুস্তাফিজুর রহমান। 

ছবি: জাহিদুল করিম

মুস্তাফিজকে যশোর বিমান বন্দরে বরণ করে নিতে এই গাড়িগুলোতে করেই এসেছিলেন সবাই। 

ছবি: জাহিদুল করিম।
ঘরের ছেলেকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব। বাসে করে সাতক্ষীরা থেকেও এসেছিলেন অনেকেই । বাসে মুস্তাফিজের ছবি সংবলিত পোস্টার। 

Read full post »

Friday, 7 August 2015

একটি ইনিংস টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বনিম্ন রান

0 comments

Read full post »

নেপালের পুনর্বাসনে এবার এগিয়ে এলেন বাংলাদেশী সমর্থকেরা!

0 comments


বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস এসোসিয়েশন (বিসিএসএ) নামের টাইগার সমর্থকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে ২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপের নেপাল-হংকং ম্যাচের টসের কয়েনটি। গত বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় খেলায় নেপাল ও হংকংয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল নেপালের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। ঐ ম্যাচে নেপাল হংকংকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ জেতার স্বাদও পেয়েছিল।

এই কয়েন দিয়ে ৯ আগস্টের নেপাল জাতীয় দল বনাম বিশ্ব একাদশের মধ্যকার চ্যারিটি ম্যাচে টস হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে, যা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যয়িত হবে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের মানুষের জন্য।

দলটির ঐতিহাসিক জয়ের এই কয়েনটি এবার ব্যবহৃত হবে দেশটির পুনর্বাসনের কাজে, যার শামিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থক।

পোস্ট  _ লিমন 

Read full post »

মুস্তাফিজুর রহমান, ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে!

0 comments

আমি ছোটবেলা থেকেই বাঁহাতি। সব কাজই বাম হাতে করতাম। এরপর মা আমাকে গ্রামের একটা জায়গায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ফেরার পর আমি আর বাঁহাতে খেতে পারিনি! বাকি সব কাজ আগের মতোই করতে পারতাম।’

-
Read full post »
 

Copyright © 2012 বাংলাদেশ ক্রিকেট Design by Free CSS Templates | Blogger Theme by BTDesigner Published..Blogger Templates| Powered by Blogger